সাবলিমিনাল মেসেজ কি আসলেই কাজ করে?

পপুলার মিডিয়া হিসেবে মাসুষের আবেগ, ধ্যানধারনা, মনের ইচ্ছা ইত্যাদি কাজে লাগিয়ে যেকোনো সমস্যা সমাধান বা কাজ হাসিলের কৌশল হচ্ছে সাবলিমিনাল মেসেজ। এখন এ সাবলিমিনাল মেসেজ আসলেই কি কাজ করে নাকি শুধুমাত্র একটি সংষ্কৃতি? চলুন জেনে আসা যাক সাবলিমিনাল মেসেজের আসল ব্যাপার।

১.

মুভি থিয়েটারের দরজা খুলে বেরিয়ে এলেন মি. কমন। এখন ইন্টারভ্যাল চলছে, সেই ফাঁকে কিছু স্ন্যাকস জাতীয় খাবার কিনে নেওয়া যায়। কাচের দরজা খুলে এসি-সংলগ্ন ক্যাফেতে প্রবেশ করতেই কানে ভেসে এলো আরবি গান। গানের কথা, সুর কিছু মাথায় না ঢুকলেও মেন্যু-কার্ডের দিকে বেশ ভালোই মনোযোগ দিচ্ছিলেন মি. কমন।অতঃপর পাক্কা দুই মিনিট ভেবে-চিন্তে একটা অ্যারাবিয়ান সাব-স্যান্ডউইচ ও কোক পার্সেল নিয়ে ফিরে গেলেন।

ইন্টারভ্যালের পর সিনেমার আসল টুইস্ট শুরু হয়েছে। সিনেমাটা মূলত এক ব্যাবসায়ীর উঠে আসার গল্প যার পথচলা অনেকটাই প্রশ্নবিদ্ধ। মূল চরিত্র একটা প্রেস কনফারেন্সে বসে আছেন, হাতে একগাদা স্ট্যাটিস্টিক্যাল তথ্য-উপাত্ত এবং পাশে একটা ছোট্ট চারকোনা বাক্স রাখা। তিনি বলছেন, ‘‘এই বাক্স দিয়ে কোনো মুভি বা টিভি সিরিজ চলাকালীন খুবই দ্রুত কিছু ইমেইজ স্ক্রিনে দেখানো যাবে দর্শকদের, যা তাঁরা সচেতনভাবে বুঝতে বা দেখতে পারবেন না, তবে তাঁদের মস্তিষ্ক এটা ঠিকই ধরতে পারবে।’’ একেকটা ছবি বা টেক্সট, যেমন, ‘‘অ্যারাবিয়ান স্যান্ডউইচ খাও’’, প্রতি দশ সেকেন্ড পরপর মাত্র দশ মিলিসেকেন্ডের জন্য স্ক্রিনে মূল সিনেমার সাথে দেখানো হলে মানুষ সেটা কিনতেই বেশি আগ্রহী হবে। অথবা একই কথা খুবই কম ফ্রিকোয়েন্সিতে চালানো হলেও তা মানুষ সচেতনভাবে শুনতে না পেলেও তাদের অবচেতন মন ঠিকই শুনে প্রভাবিত হবে। সিনেমার মূল চরিত্র এও বললেন যে তিনি এটা ইতোমধ্যে পরীক্ষাও করেছেন এবং এর কারণেই অ্যারাবিয়ান স্যান্ডউইচের বিক্রি গত এক  সপ্তাহে বিপুল পরিমাণ বেড়েছে। তিনি তাঁর] দুই হাতে স্ট্যাটিস্টিক্যাল  ডেটা ধরে নাচাতে লাগলেন।

এরপর আমাদের গল্পের মি. কমন যদি সিনেমা দেখায় নিবদ্ধ থাকতেন, তিনি পলিটিক্যাল বিজনেস থ্রিলে প্লট কীভাবে এগিয়ে যায় , তা উপভোগ করতে পারতেন। তবে তিনি অন্যমনস্ক হয়ে গেলেন এবং হাতে ধরে রাখা আধ-কামড়  দেওয়া স্যান্ডউইচের দিকে অবিমিশ্র চাহনিতে চেয়ে নিজের জীবনে নেওয়া তাবৎ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে লাগলেন।

 

২.

আমাদের এই আর্টিকেলের বিষয় পরিষ্কার করে নেওয়া  উচিত । মূলত , প্যারাসাইকোলজির একটা শাখা হিসেবে সাবলিমিনাল মেসেজ ও এর ইনফ্লুয়েন্স নিয়ে জনসাধারণের মাঝে ব্যাপক হাইপ রয়েছে। সাবলিমিনাল মেসেজের বিভিন্ন দাবি আসলে কতটুকু বৈজ্ঞানিক, সে   বিষয়ে আলোচনা করাই এই আর্টিকেলের মূল উদ্দেশ্য।

শুরুতেই আমার মনে হয় দু’টো শব্দের পার্থক্য নিয়ে আমাদের পরিষ্কার জ্ঞান থাকা উচিত । একটি শব্দ হলো Subliminal আরেকটি Supraliminal।

Subliminal উদ্দীপনা হলো এমন কিছু যার ব্যাপারে আমাদের মস্তিষ্ক পুরোই অজ্ঞ থাকবে। যেমন : ওপরে বর্ণিত সিনেমার মূল চরিত্র বলেছিলেন। এমন শব্দ ব্যবহার করা যা মানুষের Audible range (20Hz-20kHz) এর বাইরে, অথবা এমন ছবি যা এতটাই কম সময় ধরে দেখানো হবে যা আমাদের মস্তিষ্কের শনাক্ত করার জন্য যথেষ্ট নয়। যেহেতু এইসব উদ্দীপনা বা stimuli আমাদের মস্তিষ্ক কোনোভাবেই শনাক্ত করতে পারবে না তাই এগুলোকে সাবলিমিনাল মেসেজ বলা হয়।

Supraliminal উদ্দীপনা হলো এমন কিছু যার ব্যাপারে আপনার মস্তিষ্ক সজ্ঞান তবে হয়তো সেটাতে তেমন সচেতন গুরুত্ব দিচ্ছে না। উদাহরণ হিসেবে ওপরের ক্যাফেতে চলে যেতে পারেন। সেখানে আমরা দেখি ক্যাফেতে অ্যারাবিয়ান গান বাজছিল এবং মি. কমন সেটা তেমন পাত্তা না দিয়েও ঠিকই অ্যারাবিয়ান স্যান্ডউইচ কিনে বের হয়ে এলেন ।

এটা ছিল সাবকনশাস ইনফ্লুয়েন্সের উৎকৃষ্ট নমুনা  এবং এটা যথেষ্ট কার্যকরী।

প্রমাণ হিসেবে আমরা নর্থ হারগিভস এবং ম্যাকেন্ড্রিকের করা গবেষণায় চোখ বোলাতে পারি। একটা মদের দোকানে টানা দুই সপ্তাহ এই পরীক্ষাটা করা হয়। দোকানে দুই ধরনের মদ ছিল, জার্মান ও ফ্রেঞ্চ। দেখা গেল, যেদিন জার্মান গান বাজানো হয় , দোকানে সেদিন জার্মান মদের বিক্রি বেড়ে যায়। এর বিপরীতে যেদিন ফ্রেঞ্চ গান বাজানো হয় , সেদিন ফ্রেঞ্চ মদের বিক্রি বেশি হয়।

সাবকনশাস ইনফ্লুয়েন্স মার্কেটিং এ বেশ ভালোভাবেই ব্যবহার করে আসা হচ্ছে এবং ব্যাপারটা প্রমাণিত।

একই কথা কি আমরা সাবলিমিনাল মেসেজের ক্ষেত্রে বলতে পারি?

চেষ্টা করা যাক।

 

৩.

আমাদের মি. কমন হতবিহ্বল পায়ে হেঁটে-হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন। মনে রাখা ভালো, তিনি সাবলিমিনাল আর সাবকনশাস ইনফ্লুয়েন্সের পার্থক্য জানেন না। এর  ফলে তিনি দুটো ব্যাপার এক করে এই চিন্তায় পড়ে গেছেন যে  সাবলিমিনাল মেসেজ দিয়ে পৃথিবীর সবাইকে নির্দিষ্ট পণ্য কেনার ব্যাপারে প্রভাবিত করা যাবে  এবং একই প্রযুক্তি ব্যবহার করে অন্য যে-কোনো বিষয়, যেমন: কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে ভোট, কোনো নির্দিষ্ট ক্রিকেট দলের সাপোর্ট ইত্যাদি নানান বিষয়ও প্রভাবিত করা যাবে; জর্জ অরওয়েলের ‘১৯৮৪’ বইটার মতো পৃথিবীর সবাইকে তাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাবিত করা যাবে। কারো সিদ্ধান্তই আর সম্পূর্ণরূপে প্রভাবমুক্ত থাকবে না।

বাসায় এসে আর সব কমন মানুষের মতো আমাদের মি. কমনও ব্রাউজার নিয়ে বসলেন। গুগলের বুকে ইতিউতি ঘোরাঘুরি করে তিনি সাবলিমিনাল মেসেজ মার্কেটিং এর একেবারে গোড়া খুঁজে পেলেন।

 

৪.

সাল ১৯৫৭, নিউ ইয়র্ক। জেমস ভিকারি তাঁর সামনে বসে থাকা রিপোর্টারদের অবাক করে দিয়েছেন একটা আপত্তিকর দাবি করে । তিনি বলছেন, ‘‘টিভি দেখার সময় আর বিরক্তিকর বিজ্ঞাপন সহ্য করতে হবে না। তার বদলে তাঁর] ডিভাইস ব্যবহার করে স্ক্রিনে খুবই দ্রুত কিছু ছবি দেখানো যেতে পারে যা সাবলিমিনাল বিজ্ঞাপন প্রচার করবে দর্শকদের কাছে’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘সম্প্রতি একটা সিনেমা হলে ‘ইট পপকর্ন , ড্রিংক কোক’ স্লোগান বারবার সাবলিমিনাল ফ্ল্যাশ মেসেজ দেওয়ার ফলে পপকর্নের বিক্রি ১৮.১% এবং কোকাকোলার বিক্রি ৫৭.৭% বৃদ্ধি পেয়েছে।’’

জনগণ সেটা ভালোভাবে  নিলো না। আন্দোলন চলল, যার ফলে এমন সাবলিমিনাল মেসেজ দেওয়াকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে দেওয়া  হলো ।

জেমস ভিকারি কি ঠিক ছিলেন? অনেক বছর পর ১৯৬২ সালে ভিকারি স্বীকার করেন পুরো বিষয়টা ভুয়া ছিল এবং সে সময় তাঁর যন্ত্র এত দ্রুত এবং স্বল্প সময়ের জন্য কোনো ইমেইজ স্ক্রিনে প্রদর্শন করতেও অক্ষম ছিল। অনেকে মনে করেন ভিকারি তার সেই যন্ত্র সিনেমা হল মালিকদের কাছে বিক্রি করার উদ্দেশ্যেই এমন গল্প ফাঁদেন ।

তবে সেই যে শুরু, এরপর থেকে মানুষের মনে ভয় ঢুকে যায় যে হয়তো এমনটা আসলেই সম্ভব এবং এরপর থেকে আজও মানুষ যে – কোনো কিছুতে সাবলিমিনাল জিনিস খুঁজতে ব্যস্ত থাকে। সেটা ডিজনির সিনেমা হোক কিংবা মাইলি সাইরাসের গান। তাদের কল্পনাই মূলত এসব মেসেজ ‘আবিষ্কার’ – এর পেছনে শক্তি জোগায় । মানুষ তাদের ভয় থেকে এসব খুঁজতে এতটাই বদ্ধপরিকর হয়ে পড়ে যে সাবলিমিনাল শব্দের আসল অর্থই তারা ভুলে যায় যে এটা এমন কিছু যা আমাদের মস্তিষ্ক দ্বারা কোনোভাবেই শনাক্ত করা সম্ভব না।

 

৫.

সাবলিমিনাল মেসেজকে তিন ভাগে বিভক্ত করা যায়।

১. Subvisual messages: খুবই দ্রুত কিছু ছবি ফ্ল্যাশ করে দেখানো, হতে পারে কয়েক মিলিসেকেন্ডের জন্য, যা মানুষ কখনোই দেখতে পারবে না।

২. Subaudible messages: এতই কম হার্জের সাউন্ড বা কথা যা অন্য কোনো বড়ো শব্দের আড়ালে বাজানো হয় , যা মানুষ কখনোই শুনতে পাবে না।

৩. Back masking: উলটো করে রেকর্ড করা কোনো অডিয়ো যেটা হয়তো কোনো গানের সাথে শোনানো যাবে, তবে স্রেফ শুনে এটার অর্থ বোঝা কখনোই সম্ভব না।

ইদানিং কিছু মানুষ সাবলিমিনাল মেসেজ ব্যবহার করে অসাধ্য সাধন করার চিন্তা করেন। উদাহরণ হিসেবে উচ্চতা বৃদ্ধি, ত্বক ফর্সা করা কিংবা  আত্মোন্নয়ন উল্লেখ করা যায়।

শুরুতে উচ্চতা বৃদ্ধি নিয়ে কথা বলা যাক। উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য পিটুইটারি গ্ল্যান্ড থেকে গ্রোথ হরমোন নিঃসৃত হতে হয়। খুবই ছোটো করে বললে, এই পিটুইটারি গ্ল্যান্ডকে স্টিমুলেট করার জন্য সাবলিমিনাল বা বাইনরাল কোনো মিউজিকের প্রভাব একেবারেই প্রমাণিত নয়। একই ব্যাপার হচ্ছে শরীরের স্থুলতা কমানো/বাড়ানোর ক্ষেত্রেও। তবে এই ক্ষেত্রে প্লাসিবো ইফেক্ট কাজ করে, সাবলিমিনালের এটার সাথে কোনোই সম্পর্ক নেই।

অনেকেই বলতে পারেন, আমি অমুককে দেখেছি সে সাবলিমিনাল নিয়ে লম্বা হয়েছে বা তমুক চিকন হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে এই অমুক তমুককে দেখেছি কথাটা আসা মানেই তো এটার পক্ষে কোনো স্ট্যাটিস্টিক্যাল প্রমাণ আপনাদের হাতে নেই, তাই না? আমাদের Perceived data আমাদের Actual Data-এর প্রতি অন্ধ করে দেয়। অনেকটা ধূমপানের  মতো । আমাদের Actual data যতই বলুক ধূমপান স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে, নানাবিধ রোগ বাধায়, আমাদের অনেকেই তাও ধূমপান করে এই অজুহাতে, ‘‘কই, অমুক সারাজীবন ধূমপান করল, সে তো দিব্যি আছে।’’ এটা  তার Perceived data.

তবে, এবার কথা বলব কিছু স্টাডির ব্যাপারে যেগুলোর ডেটা দেখলে আপনি লাফিয়ে উঠতে পারেন ইয়াহু বলে  কিংবা বলে বসতে পারেন,  ‘‘ এইবার সাবলিমিনাল প্রমাণ হয়ে গেল!’’

 

৬.

আটানব্বই জন দর্শকের একটা টিভি প্রোগ্রামে Lipton লেখাটা সাবলিমিনাল ভাবে প্রদর্শন করা হলো । এরপর তাদের বলা হলো পানীয় হিসেবে কী খেতে চান তারা, লিপ্টন , চা না কি পানি?

মাত্র ৪৬% লিপ্টন বেছে নিলেন।

এদের থেকে তাঁদের বাদ দেওয়া  হলো যাঁরা লিপ্টনই খাবেন অথবা লিপ্টন মুখেই নেবেন না এমন মানুষদের। বাকিদের মাঝে যে ডেটা পাওয়া গেল তাতে মাত্র ৫৩% লিপ্টন বেছে নিয়েছিলেন ।

কন্ট্রোল দর্শকও ছিল। তাদের কোনো সাবলিমিনাল মেসেজ দেখানো হয়নি। তাদের ৫৩% লিপ্টন বেছে নিলেন। তবে লিপ্টন-প্রীতি আছে এমন বা লিপ্টন খাবেনই না এমনদের   বাদ দেওয়ার পর নতুন ডেটাতে দেখা গেল ৬১% লিপ্টন বেছে নিয়েছেন।

এ থেকে কী  প্রমাণিত  হলো? প্রমাণিত  হলো যে যদিও   মনে হচ্ছিল মেসেজ দেখার কারণে লিপ্টন বেছে নিয়েছেন অনেকে, তবে কন্ট্রোল দর্শকেরা সেই ধারণা ভেঙে দিলো । তারা মেসেজ না দেখেও লিপ্টন বেছে নিয়েছেন। সাবলিমিনাল মেসেজ কোনো প্রভাবই ফেলেনি ।

Greenwald, Spangenberg Pratkanis & Eskanazi 1991 গবেষণায় দেখালেন যে সাবলিমিনাল    আত্মোন্নয়নের  ডেটা কোনো কাজে দেয় না। যদিও-বা কারো মাঝে উন্নতি দেখা দেয় সেটা ওই মেসেজের দৌলতে নয় , বরং প্লাসিবো ইফেক্টের কারণে।

এমন নানা গবেষণা হয়েছে সাবলিমিনাল মেসেজ নিয়ে। একটা কথা অন্তত নিশ্চিতভাবে বলা যায়, সাবলিমিনাল মেসেজ যেহেতু আমাদের মস্তিষ্ক শনাক্ত করতেই অক্ষম তাই তার প্রভাব থাকার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।

৭.

আমাদের মি. কমন হৃষ্টচিত্তে বাড়ি থেকে বের হন। সারা  রাত পড়াশোনা করে তিনি জেনে নিয়েছেন তাঁর সিদ্ধান্ত শুধু তাঁরই । সাবলিমিনাল মেসেজ তাঁর ক্ষতিও করবে না , কাউকে সুপারপাওয়ারও দেবে না। বিজ্ঞানে ভুয়া প্রমাণিত বিষয়গুলোর মতো এটাও জায়গা করে নিচ্ছে ফাঁকা বুলিগুলোর ভেতর।

 

রেফারেন্স:

ব্যাঙাচি -১

ESP

রিটেইল মার্কেটে সাবলিমিনালের ব্যবহার (ম্যাগাজিন)

মিউজিক এবং ওয়াইন বিক্রি (স্টাডি)

আরেকটা (ইনফোগ্রাফ)

মাত্র ৬-হার্জের সাউন্ডে মস্তিষ্কের রেসপন্স (স্টাডি)

আত্মউন্নয়নে সাবলিমিনাল মেসেজ (স্টাডি)

সাবলিমিনাল মেসেজের প্রভাব (স্টাডি/বই)

সাবলিমিনিনাল বিজ্ঞাপন কি আসলেই কাজ করে(আর্টিকেল)